অরণ্যই আমাদের ভবিষ্যৎ: ছোটদের রঙে রেখায় বনেপাহাড়ের পাতায়
- ..
- 2 minutes ago
- 3 min read
বনেপাহাড়ে ওয়েবজিনের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে ছোটদের আঁকা ছবি প্রকাশ হল।
বনেপাহাড়ে ওয়েবজিন পূর্ণ করলে তার ৫ বছর। ছোট ছোট পাযে চলতে চলতে পাঁচটা বছর গড়িয়ে গেল অনেক বনের, পাহাড়ের, জীবজন্তুর খবরে-ছবিতে। বাংলা নববর্ষে যখন তার ৫ বছর পূর্ণ হল উদযাপনের জন্য প্রথমেই মনে পড়ল ছোটদের কথা। ওদের ভবিষ্যেতের কথা ভেবেই তো এতসব আয়োজন। যেন সকল শিশুর বাসযোগ্য হয়ে ওঠে এই পৃথিবী সেই বার্তাই বারবার ছড়িয়ে দিতে চেয়েছে boneypahare.com । তাই ছোটদের নিয়ে কিছু করার ভাবনা থেকেই আয়োজন করলাম ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা। বিষয়- "অরণ্যই আমাদের ভবিষ্যৎ"। দেশ জুড়ে, পৃথিবী জুড়ে যখন ক্রমশ কমে আসছে অরণ্যের বিস্তার, তখন যেন ওদের ভাবনায় এটা গেঁথে যায় যে অরণ্য না বাঁচালে ভবিষ্যৎ বড় কঠিন, বড় কর্কশ। আমাদের এই কাজে সহযোগিতায় এগিয়ে এলেন দুইজন ব্যক্তি প্রতিযোগিতার বিচারক হিসাবে, যারা অরণ্যেকে চেনেন, দেখেছেন, অনুভব করেছেন তাঁদের কাজের মধ্য দিয়ে। একজন রাজ্যের বনবিভাগের অন্যতম বনপাল বা Chief Conservator of Forest শ্রীমতি লিপিকা রায়। আর একজন প্রতিথযশা আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার শ্রী রাজর্ষি ব্যানার্জী, যার নাম এই ফটোগ্রাফির দুনিয়ায় ভারতব্যাপী। গোটা প্রতিযোগিতাটিতে সফল প্রতিযোগীদের জন্য যে পুরস্কার যাবে তার স্পনসর হিসাবে এগিয়ে এল নিউ টাউনের Kids Ortjo Clinic যা পূর্ব ভারতে ড: সৌম্য পাইকের দ্বারা শুরু করা প্রথম শুধুমাত্র ছোটদের অর্থোপেডিক চিকিৎসার বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান।
প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগ রেখেছিলাম ছোটদের বয়স ধরে। একটি ৭-১১ বছর বয়স পর্যন্ত্য। অন্যটি ১২-১৬ বছর বয়স অবধি। সারা রাজ্য থেকে, সেই কোচবিহার থেকে মেদিনীপুর অবধি ছোটরা সাড়া দিয়েছে তাদের ভানার রঙে-রেখায় তুলে ধরে। এমনকি বিদেশ থেকেও বাবা-মা'রা তাদের সন্তানদের ছবি উদ্যোগ নিয়ে পাঠিয়েছেন। তাদের এই স্বত:ফূর্ত সাড়া দেওয়া অভিভূত করে দিয়েছে। ছবিগুলো এতই যত্ন ও স্বপ্ন দিয়ে তৈরি, বিচারকেরা সেরা ছবি বেছে নিতে বেশ হিমশিম খেয়েছেন।
প্রতিযোগিতায় সফল প্রতিযোগীদের ছবিগুলি ও আরো কিছু বেশ মনে রাখার মত ছবি বনেপাশাড়ের এই প্রতিবেদনে থাকল।
ছোটদের বিভাগ (৭-১১ বছর বয়স):

ছোটদের বিভাগে প্রথম হয়েছে শ্রেয়াণ জালুই। সল্টলেকের বাসিন্দা শ্রেয়াণ ডি পি এস মেগাসিটির পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র।


জুনিয়ার বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে কলকাতার নস্করহাটের বাসিন্দা সৃঞ্জয় মৌলিক। সৃঞ্জয় গার্ডেন হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র।


জুনিয়ার বিভাগে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে গার্ডেন হাইস্কুলেরই দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র শুভ্রায়ণ ভট্টাচার্য্য। মুকুন্দপুরের বাসিন্দা শুভ্রায়ণ এত ছোট বয়সেই প্রতিযোগিতায় সাফল্য লাভ করেছে।

যারা প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান পেয়েছে তারা ছাড়াও আরো বেশ অনকে সুন্দর সুন্দর ছবি এসেছে আমাদের কাছে । তার কিছু থাকল এইখানে:






সিনিয়ার বিভাগ (১২-১৬ বছর বয়স):

এই বিভাগে প্রথম হয়েছে রাজদীপ চৌধুরী। খড়দহের বাসিন্দা রাজদীপ ব্যারাকপুর গভ: হাইস্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র।

সিনিয়ার বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে কলকাতার বানীপিঠ গার্লস হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী প্রিয়াঙ্কা বৈরাগী।


এই বিভাগে তৃতীয় হয়েছে হাওড়ার বাগনানের বাঙ্গালপুর হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী অস্মিতা বের।

এছাড়াও এই বিভাগেও আরো বেশ কিছু সুন্দর সুন্দর ছবি ছোটরা পাঠিয়েছে। তবে প্রতিযোগিতায় স্থান নির্ধারণের সময়ে বিচারকেরা মূলত: গুরুত্ব দিয়েছেন দক্ষতার সাথে সাথে প্রতিযোগিতার ভাবনা বা বিষয়বস্তুর সাথে ছবি কতটা মিলছে সেই দিকে।








শেষ করা যাক ওমান থেকে পাঠানো অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অধিরথ দে'র আঁকা এই দারুণ সুন্দর ছবিটি দিয়ে।

সমস্ত অংশগ্রহণকারীদের অনেক অভিনন্দন । ওরা যেন ভবিষ্যতে আরো ভালো শিল্পী হয়ে ওঠে, প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী নিয়েও উৎসাহ বজায় রাখে সেই কামনা করি।
ছোট-বড় সবাই মিলে পড়তে থাকুক বনেপাহাড়ে। জানুক, চর্চা করুক প্রকৃতি নিয়ে, বন্যপ্রাণী নিয়ে। যত বেশি জানব তত বেশি সচেতন হব আমরা।






Comments