• ..

কুন্হ খাল ট্রেক- ৪৫ বছরের বিস্মৃতি থেকে আলোয় ফেরা



ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্সের রহস্য আবিষ্কার হয়েছিল এই পথেই। কিন্তু ঘাংঘড়িয়া হয়ে নতুন রাস্তা তৈরি হবার পর সেই পথ ভুলে গেছিল সকলেই। সেই পথেরই সন্ধানে এক বাঙালী দম্পতি তাঁদের ৫ বছরের কন্যাকে নিয়ে। আজানা রুটে তাঁদের সেই অভিযানের গল্প এবার বনেপাহাড়ে'র পাতায় লিখলেন অনির্বান ব্যানার্জী


কুন্হ খাল যাবার পথে দেখা ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স। পিছনে মাউন্ট রতবন।



১৯৩১ সালে ফ্রাংক এস স্মিথ, বিখ্যাত ব্রিটিশ পর্বতারোহী, ৭৭৫৬ মিটার উচ্চতার কামেট পর্বতশৃঙ্গ আরোহণ করে ফেরার সময়ে ভ্যালি অব্ ফ্লাওয়ার্স আবিষ্কার করেন, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ কিলোমিটার ও প্রস্হে প্রায় ২১৫ কিলোমিটার।যে রাস্তা দিয়ে উনি বদ্রীনাথের দিকে নেমেছিলেন ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স থেকে- সেটাই কুন্হ খাল। ১৯৭০ থেকে সেই রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় কারণ ততদিনে গোবিন্দঘাট দিয়ে ঘাংঘরিয়া হয়ে ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্সে যাবার অনেক সহজ রাস্তা হয়ে গেছে। কুন্হ খালের রুট চলে যায় বিস্মৃতির আড়ালে। ২০১৩ তে সারা উত্তরাখন্ড জুড়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর সরকার ভাবনা চিন্তা শুরু করল এই অঞ্চলে বিপদের সময় প্রচলিত গোবিন্দঘাট-ঘাংঘাড়িয়া বাদে অন্য কোন রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষদের নিরাপদে বার করা যায় কিনা।তখনই কুন্হখাল নিয়ে ভাবনা শুরু সরকারের। ২০১৪ সালে এই অঞ্চলটা পুরোপুরি বন্ধ ছিল, ২০১৫ তে পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেবার তোড়জোড়। এইটুকু তথ্য নিয়ে ২০১৬ সালের জুন মাসে আমাদের কুন্হ খাল যাবার পরিকল্পনা। ৪৫ বছর পর একটা প্রায় হারিয়ে যাওয়া ট্রেক রুটের আবার পুনর্জন্ম, এর রোমাঞ্চই আলাদা।

"আ যাও জি, কুন্হ খাল হি করেঙ্গে। কুছ না কুছ তো বন্দোবস্ত হো জায়গা" ব্যস আমাদের কাছে এই টুকুই তথ্য ছিল রুটটি সম্বন্ধে, আর এই কথার ওপর ভরসা করেই বেড়িয়ে পড়া।

গ্রুপ ছাড়া আমাদের সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়ে তিস্তাকে নিয়ে প্রথম ট্রেক (যদিও এর আগে তিস্তাকে নিয়ে ৫ টি ট্রেক করা হয়ে গেছে, কিন্তু সব গ্রুপে), তাই প্রথম প্ল্যান ছিল শুধু হেমকুন্ড সাহিব আর ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স। একদিন আমাদের বন্ধু যোশীমঠের অজয় ভাটের সাইট www.himalayansnowrunner.com এ কুন্হ খালের জায়গাটা হঠাৎ আমার স্ত্রী শ্রীমতি চোখে পড়ে, গুগল করে জানা গেল যে এই রুটটা ৪৫ বছর ধরে বন্ধ ছিল এবং কোন রাস্তা ছিল না। ২০১৫ তে রাস্তা হলেও এই বছর প্রথম সরকারি ভাবে চালু হবে। আর এই রুটে এখনও অবধি কোন গ্রুপ যায়নি। রাস্তা সম্বন্ধে যা জানা গেল কিছু কিছু জায়গায় বেশ কঠিন, হয়ত রোপ ফিক্স করতে হতে পারে।

আমার বা শ্রীমতি দু'জনের কারুর মাউন্টেনিয়ারিঙে ট্রেনিং করা নেই, সুতরাং দুজেনি প্রথমে একটু পিছিয়ে গেলাম। কিন্তু ইচ্ছা ছিল পুরোপুরি। অগত্যা অজয় ভরসা, ধরলাম অজয়কে। ও বলল, যেহেতু ওই রুটে আগে কেউ যায়নি, তাই ওকে খোঁজ নিতে হবে রাস্তার হাল। যাই হোক আমাদের পুরোদস্তুর প্রস্তুতি চলল, কিন্তু অজয় আর কনফার্ম করে না। যাবার দিন এগিয়ে এল।শেষ পর্যন্ত ওই ওপরের মেসেজ। ব্যাস আমরাও তল্পিতল্পা নিয়ে ট্রেনে উঠে পড়লাম। পৌঁছে গেলাম হরিদ্বার। আর পরেরদিন সোজা যোশীমঠ গিয়ে উপস্হিত।

যোশীমঠের মেন মার্কেট থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে "দ্য হিমালয়ান এবড", পরিপাটি করে সাজানো অজয়ের খুব সুন্দর একটা হোম স্টে, রুফ টপ রেস্তোরাঁ সমেত। এখানে আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল। অজয় বিকেলে এল। শুরু হল ডিটেল আলোচনা। অজয় জানাল, ও সন্দীপ আর পজরমোদকে পাঠিয়েছিল রুটের হাল দেকে আসার জন্য (এরা ২০১৪ তে আমাদের বাগিনী ট্রেকে আমাদের গাইড ছিল)। ওদের মতে ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স দিয়ে উঠে কুন্হ খাল বেসে থেকে আবার সেই রুটেই নেমে আসা ভাল, কারণ কুন্হ খাল থেকে হনুমান চট্টি রাস্তা বেশ খারাপ। আমরা দুজনেই বললাম চেষ্টা করে দেখা যাক। অজয়ের পুরো ইচ্ছা ছিল। তাই প্ল্যান ঠিক হল। প্রথমে সন্দীপ ঘাংঘড়িয়া যাবে আমাদের সাথে। সেখান থেকে আমরা হেমকুন্ড সাহিব ঘুরে আসব। সেদিন আবার প্রমোদ বাকি মালবাহক বন্ধুদের নিয়ে ঘাংঘড়িয়া পৌঁছে যাবে।

যোশীমঠ থেকে ২০ কিলোমিটার গাড়িতে গোবিন্দঘাট। সেখান থেকে শেয়ার জীপে পুলনা গ্রাম ৪ কিমি দূরে। পুলনা থেকে একজন মালবাহক বন্ধু ও একজন কান্ডিওয়ালা ভাড়া করে ১৫ কিমি দূরে ঘাংঘড়িয়া গিয়ে হোটেল হলিডে ইন এ উঠলাম। বেশ সুন্দর পরিষ্কার হোটেল, ছাদ থেকে পুরো ঘাংঘড়িয়াটা দেখা যায়।পরেরদিন ১২ কিমি আপ-ডাউন করে বেশ চড়াই রাস্তা দিয়ে হেমকুন্ড সাহিব ঘুরে এলাম। ফেরার পথে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে নামতে হল ঘাংঘড়িয়া। সন্ধ্যাবেলা প্রমোদ ও সন্দীপের সাথে আর এক দফা আলোচনা সেরে নিলাম পরের তিন দিনের কুন্হ খাল ট্রেক নিয়ে। ওরা আবার বলল কুন্হ খাল থেকে রাস্তা বেশ কঠিন হনুমান চট্টির। এটাও জানাল যে , এই রুটে যাবার জন্য অজয় দক্ষ কান্ডিওয়ালা নরেশকে যোশীমঠ থেকে পাঠিয়েছে।

ঘাংঘড়িয়া থেকে পরেরদিন সকাল সাতটায় হাটা শুরু হল। আজ আমাদের টার্গেট মোটামুটি ১০ কিমি দূরে কুন্হখাল বেস(৪০৬২ মিটার)। ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্সের চেকপোস্ট এবং ব্রিজ পার হয়ে পুষ্পবতী নদীর পাশ দিয়ে রাস্তা চলেছে ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্সের দিকে।প্রথম তিন কিমি যাবার পর বামি ধৌর, যেখান থেকে ডানদিকে চলে যায় ভ্যালির ভিতরে ভুইন্দার খালের রুট। আর একটা রাস্তা বামে উঠে গেছে কুন্হ খালের দিকে। কুন্হ খালের রাস্তা শুরু হয় পুরো চড়াই দিয়ে।প্রায় ২ কিমি বুক ফাটা চড়াই। রডোডেনড্রনের জঙ্গলের মধ্য দিয়ে।খানিক পরে চলে গেলাম ট্রী লাইনের উপরে। এর পর রাস্তা মোটামুটি সমতল। রাস্তা এতই সুন্দর আর আর ফুলে ঢাকা যে দেখেশুনে পা ফেলতে হচ্ছে যতটা সম্ভব ফুলের ওপর পা না ফেলে। ডানদিকের পাহাড়টা সবুজ ঘাসে ঢাকা, তাতে রঙ বেরঙের ফুল ফুটে আছে আর ছোট ছোট গ্লেসিয়ার, পেছন দিকে মাউন্ট রতবন্ মাথা উঁচু করে আছে। বাম দিকে একটার পর একটা গ্লেসিয়ার, আর একটা নদী যার কোন নাম এখনও অবধি নেই। তাই আমরাই নাম দিলাম কুন্হ নালা। কুন্হ নালা পুষ্পবতীতে মিশেছে ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্সে।

কুন্হ খালের ওপর থেকে দেখা ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স।

অল্প বিস্তর চড়াই উৎরাই হয়ে পৌঁছালাম মোরেন জোনে যার মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে কুন্হ নালা। পেরিয়ে গিয়ে দেখতে পেলাম আমাদের তাঁবু খাটানো হয়ে গেছে। অপূর্ব সুন্দর ক্যাম্পিং গ্রাউন্ড, সবুজ গালিচার মধ্যে অনেক রকম ফুল ফুটে আছে। তাঁবু থেকে ২০ ফুট দূরে এসে থেমেছে একটা বেশ বড় গ্লেসিয়ার। চতুর্দিকে বরফের চূড়াগুলো মেঘের আড়াল থেকে মাঝেমধ্যে উঁকি দিচ্ছে। কুন্হ নালা পাশ দিয়ে বইছে। আনাচে কানাচে অসংখ্য ওয়াটার ফলস্ আর গ্লেসিয়ার। তাঁবুর পিছনে মোড়েন জোনের পরেই দেখা গেল কুন্হ খালে ওঠার রাস্তা, আর সামনের দিকে দেখা যাচ্ছে পুরো ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স আর মাউন্ট রতবন। অনেকটা উপর থেকে বলে মাউন্ট রতবনের আইস ফল, গ্লেসিয়ার, মোড়েন সবই পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। দূরে একদল ভরালকে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল।

এর মধ্যে একটা ঘটনা ঘটলো। আমি আর শ্রীমতি তাঁবু থেকে একটু দূরে ছবি তুলছিলাম আর তিস্তা তাঁবুর ভিতরে খেলছিল।হঠাৎ দেখি ও ডাকছে। "পাপা, মাম্মা তাড়াতাড়ি এস। আমার দাঁত পড়ে গেছে।" গিয়ে দেখি প্রথম দুধের দাঁত পড়েছে। সেটা কুন্হ খাল বেসে।

পরের দিন সকালে দেখলাম আকাশ মোটামুটি পরিষ্কার, কিন্তু ঘোড়ি পর্বত মেঘের আড়ালে ঢেকে আছে।তাড়াতাড়ি ব্রেকফাস্ট করে বার হয়ে গেলাম।কুন্হ খাল বেস থেকে কুন্হখাল টপ মোটামুটি ১ কিমি। মোড়েন অঞ্চল দিয়ে খাড়া পথ শুরু হল। বাঁ দিক দিয়ে বয়ে চলেছে সেই কুন্হ নালা। ডানদিকের অনুচ্চ পাহাড়টা জায়গায় জায়গায় সবুজ ঘাসে ঢাকা।তার মধ্যে হরেক রঙের ফুল। সামনে দেখা যাচ্ছে বরফ ঢাকা কুন্হ খাল টপ।

কুন্হ খাল টপের দিকে।

পিছনে সগর্বে দাড়িয়ে মাউন্ট রতবন আর তার পায়ের কাছে ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স। অপূর্ব দৃশ্য, ঠিক যেন পেইন্টিং। ঘোড়ি পর্বতের চূড়াটা একবার মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দেওয়ায় বুঝলাম যে আমরা ওই পর্বতের কত কাছে ক্যাম্প করেছিলাম, কিন্তু মেঘে ঢাকা থাকায় দেখতে পাইনি।

কুন্হ খালের ওপরে আমরা।

কুন্হ টপ (৪৫২৩ মিটার) এর কাছাকাছি পৌঁছতে না পৌঁছতেই আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করল। টপে পৌঁছানো মাত্র চিনির মত বরফ পড়া শুরু হল। যদিও পাঁচ ছয় মিনিট পরে বন্ধ হয়ে গেল। কুন্হ খালের গলিটা আগেই দেখা গেছিল বরফে ঢাকা, পেরোতে একটু বেগ পেতে হল। আকাশ ততক্ষণে মেঘে ঢেকে গেছে, পুরো কালো মেঘ। কুন্হ খালের ওপর থেকে কিছু ছবি তুলে শুরু হল নীচের দিকে নামা। পরের ক্যাম্প পালসি উদিয়ার, যেটা এখান থেকে ৭ কিমি। পাকদন্ডী রাস্তা খাড়াই নেমে গেছে, মোটামুটি ১ কিমি মতন মোড়েন অঞ্চল দিয়ে যাওয়ার পর শুরু হল ফুলের রাজত্ব। বেশ কয়েক রঙের রডোডেনড্রন আর অনেক রকম নাম না জানা ফুল। হালকা বৃষ্টি ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে। আর ১ কিমি যেতে না যতেই শুরু হল আকাশ ভাঙা বৃষ্টি।তিস্তা রেনকোট পরেই ছিল। তা ছাড়া কান্ডিতে পলিথিনের শিট ও ছিল। ওকে নিয়ে নরেশ এগিয়ে গেল। খুবই পারদর্শী ও যত্নশীল কান্ডিওয়ালা।

পালসি উদিয়ারে নামার রাস্তা।

এবার সমস্যা শুরু হল আমাদের। বৃষ্টিতে নামা তো দূরে থাক কিছু জায়গা এমন পিচ্ছিল হয়ে গেল যে দুপায়ে ঠিকঠাক দাঁড়ানো অবধি যাচ্ছে না।ভরসা যোগাল রডোডেনড্রনের ডাল (আর অবশ্যই আমাদের প্রিয় গাইড কাম বন্ধু সন্দীপের হাত)। বেশ কিছু জায়গায় এই ডাল ধরে দোলনার মত নামলাম। অনেক দূরে ঝাপসা দেখা যাচ্ছিল একটা সবুজ ঘাসজমি। পরে জানলাম ওটাই পালসি উদিয়ার। এই বৃষ্টির জন্য ক্যাম্পে পৌঁছতে মোটামুটি দুপুর গিয়ে গেল।পৌঁছে দেখলাম ওই বৃষ্টির মধ্যেও প্রমোদ এবং অন্যরা চা, স্যুপ, লাঞ্চ বানিয়ে ফেলেছে।

তিস্তাকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নরেশ। কুন্হ খাল টপ থেকে পালসি উদিয়ারের পথে।

পালসি উডিয়ার (৩৬০০মিটার) এক অপূর্ব ক্যাম্পসাইট। আমাদের তাঁবু পিচ করা হয়েছে যে বুগিয়ালটার মধ্যে সেখানে ঘাসগুলো ৩ ফুটের মতন লম্বা আর পুরো বুগিয়ালটা বেগুনী রঙের ফুলে ভরে আছে।পাশ দিয়ে একটা বড় নদী বয়ে গেছে যার যথারীতি কোন নাম নেই।তাই আমরাই নাম দিলাম পালসি নালা। ওই সবুজের মধ্যেই আশেপাশে অসংখ্য গ্লেসিয়ার ছড়িয়ে আছে। তাঁবুর পিছনেই শাত বাড়ালে ধরা যায় এমন দূরত্বে কিছু বরফের পাহাড়। যার মধ্যে জেনেছিলাম নর পর্বতও ছিল। আর সামনের দিকে বিশাল বড় রেঞ্জ। যার মধ্য নীলকন্ঠ ও আরও অনেক পর্বতের সারি।

নর পর্বতের শৈলশিরা

পালসি উদিয়ার ক্যাম্পসাইট থেকে দেখা পর্বতের সারি। এই দিক তেকেই আমরা নেমেছিলাম কুন্হ খাল থেকে।

অবশেষে বিকেল বেলা বৃষ্টি থেমে আকাশ পরিষ্কার হল এবং এক মায়াবী সূর্যাস্তের দেখা পেলাম।পালসি উদিয়ার থেকে হনুমান চট্টি (২৩০৮ মিটার) মোটামুটি ৫ কিমি যার বেশিরভাগটাই উৎরাই। কিন্তু এই মাত্র ৫ কিমি নামতে মোটামুটি ৬ ঢেকে ৭ ঘণ্টা লেগে গেল। সন্দীপ ও প্রমোদ আগেই বলেছিল এবং দেখা গেল ওদের কথা অক্ষরে অক্ষরে ঠিক।রাস্তা সত্যিই খারাপ।

পালসি উদিয়ার থেকে হনুমান চট্টির সেই রাস্তা।

কিছু জায়গায় পাথুরে রাস্তা কেটে সিঁড়ির মত বানানো হয়েছে, যার ঢাল প্রায় ৭০ ডিগ্রী।কিছু কিছু পাথর এত উঁচু যে চড়াই ওঠার সময়ে হাঁটু প্রায় বুকের কাছে ঠেকে যায়। উৎরাইতে বেশ কিছু জায়গা বসে নামতে হল। রাস্তায় অপূর্ব সুন্দর কিছু ঝরনা দেখা গেল। হনুমান চট্টি পৌঁছাবার ২ কিমি আগে পালসি নালাটা বেশ চওড়া হয়ে যায়।

হনুমান চট্টি নামার পথ।

এই জায়গায় একটা বাঁশের সাঁকো বানানো আছে যেটা নদীর জল বেড়ে গেলে ডুবে যায়। তখন দড়ি ছাড়া এই নালা পার হওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। যদিও আমাদের কোন 'রোপ ফিক্স' করতে বার হয়নি। রয়েছে একটা বিশাল বড় পাথর যার গা দিয়ে অনবরত গ্লেসিয়ার গলা জল পড়তে থাকে। এটি পার করার জন্য বানানো আছে একটি ঝুলন্ত সাঁকো। এটা পোরানো বেশ মজার এবং ছবি তোলার জন্য আদর্শ।

হনুমান চট্টি পৌঁছতে দুপুর হয়ে গেল। অজয় আগে থেকেই গাড়ি ঠিক করে রেখেছিল, যেটা করে আমরা গিয়ে উঠলাম বদ্রিভিলে রিসোর্টে। এবার রুদ্রপ্রয়াগ, হরিদ্বার, দিল্লী হয়ে কলকাতা ফেরার পালা।


অজয় ভাটের যোগাযোগ: ৯৪১২০৮২২৪৭, ৯৭৫৬৮১৩২৩৬/ www.himalayansnowrunner.com








হনুমান চট্টির পথে।

ছবি: লেখক।




বনেপাহাড়ে- বাংলায় প্রথম বন্যপ্রাণ ও পরিবেশ বিষয়ক ওয়েবজিন।

Click here to join us at Facebook. LIKE and Follow our page for more updates.


135 views0 comments
Royal_Bengal_Tiger_Kanha.JPG