দারোজির ভাল্লুকের ডেরা
- ..
- 1 day ago
- 2 min read
কর্ণাটকের হাম্পির কাছে রয়েছে দারোজি অভয়ারণ্য, যা ভারতের স্বল্প কয়েকটি ভাল্লুক সংরক্ষণ কেন্দ্রের অন্যতম। সেখানকার ছবি উঠে এল সৈকত ভট্টাচার্যের ক্যামেরায়।
হাম্পিতে ভাল্লুক দেখতে যাচ্ছি শুনলে লোকে ভাববে নিশ্চিত ঢপ দিচ্ছি। আজ থেকে ৪০ বছর আগে যে শহর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হয়েছে, এই শতকেও যে শহর এতটাই সংরক্ষিত আছে যে আজও ভোরবেলা পাথরের উপর বসে থাকলে মনে হয় শরদিন্দুর লেখা তুঙ্গ ভদ্রার তীরে উপন্যাসের মধ্যেই আছি, সেই শহরে আর যাই হোক ভাল্লুক দেখতে লোকে আসে না। কিন্তু আসা উচিত। ভাল্লুকের ফটোগ্রাফি করতে হলে তো অবশ্যই।
হাম্পি থেকে মাত্র ১৫-২০ কিলোমিটার দূরে কর্ণাটকে রয়েছে দারুণ এই স্লথ বিয়ার অভয়ারণ্য। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এশিয়ার প্রথম এমন অভয়ারণ্য যা শুধুমাত্রই স্লথ বিয়ার দের জন্য। বর্তমানে এখানে প্রায় দেড়শ মত ভাল্লুক আছে। চিতাবাঘ হায়না প্যাঙ্গোলিন এসবও আছে, যদিও এদের দেখা মেলা বেশ কঠিন। এখানে ভাল্লুক দেখা অবশ্য মোটেই শক্ত নয়। তবে ভালো ছবি তুলতে হলে ক্যামেরা থাকা মাস্ট। মোবাইলধারী সেলফি শিকারীদের এখানে ভাল্লুক দেখতে হয় অনেক দূরের এক ওয়াচ টাওয়ার থেকে। আর হাতের নাগালে পেতে হলে চাই ক্যামেরা (ডিএসএলআর, মিররলেস বা পয়েন্ট শুট কিছু একটা হলেই হল)। তাহলে পাওয়া যাবে বিশেষ অনুমতি খাঁচায় ঢোকার। না, ভাল্লুক গুলো খাঁচায় থাকে না তারা পাহাড় জঙ্গলেই ঘুরে বেড়াবে। খাঁচায় থাকবেন আপনি। বিকেল তিনটা থেকে ছটার মধ্যে তারা যেখানে খাবার খুঁজতে আসে সেখানেই এক সুরক্ষিত ফটোগ্রাফার ফ্রেন্ডলি খাঁচায়। তারপর তিন ঘন্টা এন্তার ছবি তোলার সুযোগ। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এই সময় ভাল্লুকদের ছানাগুলো একটু বড় হয় আর তারাও মায়ের পিঠে চেপে খাবার খুঁজতে আসে। তাই এই কিউটি দের ছবি তুলতে হলে এই সময়ই আপনাকে যেতে হবে দারোজি।
নিচে রইল আমার তোলা কিছু ভাল্লুক আর ভাল্লুক ছানার ছবি। সাথে দারোজির আর দুই স্টার অ্যাটট্রাকশন: পেইন্টেড স্পার ফাউল আর পেইন্টেড স্যান্ড গ্রাউস।



কিভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু ফ্লাইট, সেখান থেকে ট্রেনে বাসে বা প্রাইভেট গাড়িতে হসপেট, সেখান থেকে হাম্পি যাওয়ার রাস্তায় মাঝপথে পড়বে দারোজি।





কোথায় থাকবেন: হাম্পিতে ব্যাক প্যাকার হোস্টেল থেকে শুরু করে উচ্চমানেট প্যালেস স্টে সবই আছে। তবে আমরা ছিলাম পম্পাইয়া মালেমথের বানানো মালেমথ ইকো ফার্মে। উনি দারোজি প্রতিষ্ঠার একজন কর্ণধার এবং এই অঞ্চলের জঙ্গল আর জীবজন্তু সম্পর্কে ওনার জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা অপরিসীম। হাম্পিতে ওয়াইল্ডলাইফ দেখতে হলে উনার সাথে যোগাযোগ করাটা অবশ্য কর্তব্য।
সৈকত ভট্টাচার্য্য পেশায় চিকিৎসক ও অধ্যাপক। তাঁর নেশায় রয়েছে ভ্রমণ আর ছবি তোলা।








Comments