অরণ্যকান্ড
- ..
- 8 hours ago
- 6 min read
সারেন্ডার জঙ্গলে সারা রাত আটকে পড়ে, হাতি দেখার গল্প। আমাদের প্রিয় লেখক , মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন অ্যাডিশনাল পি সি সি এফ নীল মজুমদারের সরস কলমে। বনেপাহাড়ের পাঠকদের জন্য আসন্ন দোল উৎসবের আগে জঙ্গলের রোমাঞ্চকর গল্প।

সারেন্ডার সুন্দর শালের বন দেখছিলাম তন্ময় হয়ে। বিশ্রী ঘটনাটা ঘটল ঠিক সেই সময়। কাঁচা রাস্তায় গোটা দুয়েক খানা খন্দের ঝাঁকানি খেয়ে আমাদের জীপটা লাট খাওয়া ঘুড়ির মত বেঁকে গেল একদিকে। বিকট শব্দে ব্রেক কষে পান্ডে বললো, ‘পাংচার!’
‘বলিস কিরে!’ বলতে বলতে আমি আর প্রদীপ লাফিয়ে নামলাম জীপ থেকে। পেছন থেকে ফরেস্ট গার্ড মোহন সিং আর ড্রাইভার সহদেবও। বিপদের অনুমান সাধারণতই ভুল হয়না। বাঁদিকের পেছনের টায়ারটা গেছে। বড়জামদা নামের একটা ছোট জায়গা পার হওয়ার পর প্রথমবার পাংচার হওয়ায় স্টেপনি লাগানো হয়েছিল। তখনই উচিত ছিল, বড়জামদায় ফিরে গিয়ে পাংচার ঠিক করিয়ে নেওয়া। ‘কিন্তু এখন পাংচার ঠিক করাতে গেলে, থোলকোবাদের জঙ্গলে সূর্য্যাস্ত দেখা হবেনা’, বলেছিল শৌখিন প্রদীপ। ‘নে দ্যাখ এবার সূর্য্যাস্ত’, মুখ খিঁচিয়ে পান্ডে বললো, ‘বোকামির শাস্তি এইভাবেই পেতে হয়!’
‘আরে, আমি কি জানতাম নাকি এটাও এভাবে’ – নির্বিকার ভাবে আস্তে আস্তে প্রদীপ বলল, আর তাছাড়া, জঙ্গলে এসেছিস কোনো অঘটন ঘটবেনা এটা ভাবতে তোদের ভালো লাগে?
‘চুপ কর’। পান্ডের রাগ এখনও পড়েনি, ‘ তোর এই বিদঘুটে খেয়ালের জন্যেই’-
বাধা দিয়ে আমি বললাম, ‘পান্ডে ঝগড়া ছেড়ে বরং একটা উপায় খোঁজা যাক। সূর্য্য ডুবতে এখনও খানিকটা দেরী আছে। আচ্ছা মোহন সিং, থোলকোবাদের সেই ফরেস্ট ব্যারাকটা এখান থেকে কত দূর?’
মোহন সিং স্থানীয় মানুষ। একটু ভেবে বলল, ‘এই ধরুন, নয় দশ কিলোমিটার হবে’।
‘গাড়িটা এখানে রেখে, সবাই যদি হেঁটে ওখানে চলে যাই?’
মাথা চুলকে মোহন সিং বলল, ‘না স্যার, এদিকটায় হাতির উৎপাত বড্ড বেশি। বিশেষ করে এই সন্ধের মুখে’– যে কোনো কান্ডজ্ঞান সম্পন্ন লোকের বাকিটা বোঝা উচিত বলেই বোধহয় ও আর কথাটা শেষ করলনা।
পান্ডে জিজ্ঞাসা করল, ‘ধারে কাছে কোনো গ্রাম ট্রাম নেই?’
‘থোলকো বাদের চেয়ে কাছে আর কিছুই নেই’।
‘ধরো, যদি সকলে এই জীপেই বসে থাকি সারারাত’?
মোহন সিং কে চুপ করে থাকতে দেখে বুঝলাম, এই ব্যাবস্থাও ওর ঠিক পছন্দ নয়।
‘কিন্তুউপায় তো বার করতেই হবে একটা’ পান্ডে বিরক্ত হয়ে বলল, ‘এখানে দাঁড়িয়ে দুহাত তুলে নাচলেও তো হাতিরা খুশি হয়ে আমাদের ছেড়ে দেবেনা’।
ওকে রাগাবার জন্যেই প্রদীপ স্বভাবসিদ্ধ নির্বিকার গলায় বলল, ‘আমার তো মনে হয় জঙ্গলে রাত কাটাতে হলে বিধিসম্মত ভাবে কাটানোই ভালো। মানে, মাঝখানে আগুন জ্বেলে চারিপাশে বসবো আমরা। হাতে রামের গ্লাস, একটা দুটো পুরোনো দিনের নস্টালজিক গান টান হবে’…।
ওর বলার ভঙ্গিতে আমরা সবাই হাসলাম। মোহন সিং একটু ইতস্তত করে বলল, ‘এখানে কাছেপিঠে একটা ওয়াচ টাওয়ার থাকার কথা। ওটা খুঁজে পেলে অন্ততঃ রাত কাটানোর একটা ব্যাবস্থা হয়ে যাবে’।
‘ব্যাস, তাহলে আর ভাবনা কি! খাবার তো সঙ্গে আছেই কিছু। কাল সকালে উঠে যাহোক একটা ব্যাবস্থা করা যাবে’।
অতঃপর জীপটা কে ঠেলেঠুলে রাস্তার একপাশে করে দিয়ে ওয়াচ টাওয়ার খুঁজতে বের হলাম আমরা। সহদেব আর মোহন সিং একদিকে, আমরা তিনজন অন্যদিকে। ভরাট শালের জঙ্গল, কালচে গাছের গোঁড়ায় লাল মাটির প্রলেপ লাগিয়ে দিয়েছে উই পোকারা। মানুষ সমান উঁচু উইয়ের ঢিবিও চোখে পড়ছে এখানে ওখানে। শালের সঙ্গে আছে পলাশ, মহুয়া, শিরীষ, জারুল। নিচে ধুলোমাখা অজস্র আগাছা।
চলতে চলতে উই ঢিবির ওপর বড় একটা গর্ত দেখিয়ে প্রদীপ বলল, এটা কিসের গর্ত জানিস পান্ডে? ভালুকের মুখের। ঢিবিতে মুখ ঢুকিয়ে শোঁ শোঁ করে টেনে নেয়। উই পোকা ভালুকের অতি প্রিয় খাবার।
‘প্রদীপ, তোর এই জ্ঞানের ঝর্ণাটা খানিক্ষণ বন্ধ রাখা যায়না রে?’
‘ইয়ার্কি নয়, আমি পড়েছি’–
আমি ওকে থামিয়ে বললাম, ‘ওয়াচ টাওয়ারটা কোথায় থাকতে পারে সে বিষয়ে কিছু পড়িসনি?’
‘এটা তো পড়ার বিষয়ই নয়’। সপ্রতিভ ভাবে প্রদীপ বলল, ‘হাতে একটা ফরেস্ট ম্যাপ থাকলে দেখে বলে দিতে পারতাম’।
দুপুরে চাইবাসায় অনেকে বলেছিল, সন্ধের আগেই পৌঁছে যাবেন থোলকোবাদে। হয়তো যেতামও। কিন্তু বড়জামদা পার হওয়ার পর যে এরকম হবে, তাও পরপর দু’বার, তা কে জানতো! লিফট পাবার কোনো আশা নেই। থোলকোবাদে কচ্চিৎ আসে কেউ। আসে ফরেস্ট কলেজের ছেলেমেয়েরা দলবেঁধে বাস নিয়ে সরকারী ট্যুরে। কিংবা চাইবাসা থেকে পিকনিক পার্টি। কিন্তু থোলকোবাদে সেরকম কোনো বুকিং যে আজ নেই, সে খবর তো আগেই পেয়ে গেছি। থাকলে, আমাদের জন্যে থোলকোবাদে বনবিভাগের ব্যারাক কিংবা ড্রাইভার ইত্যাদির জন্যে আউট হাউস কোনো কিছুই জোটানো যেতনা। এখন মনে হচ্ছে, চাইবাসা বেড়াতে এসে এই বেয়াড়া শখটা আমাদের না করলেও চলত। কিংবা করলেও, প্রয়োজন ছিল এই ভাঙ্গা ফুটো গাড়িটার ব্যাপারে আরও সতর্ক হওয়ার।
কাঁচা রাস্তার ডানদিকের জঙ্গলে বেশ খানিকটা যাওয়ার পর জঙ্গল একটু হাল্কা হয়েছে দেখলাম। আর একটু এগোতেই, ব্যাস্ত ভাবে এগিয়ে আসা সহদেব এবং মোহন সিং কেও দেখা গেল।
‘পেয়ে গেছি স্যার’, কাছে এসে মোহন সিং বলল, ‘ওদিকে একটা ওয়াচ টাওয়ার আছে’।
হাতে স্বর্গ পাওয়ার মত পান্ডে বলল, ‘এতো তাড়াতাড়ি! বাঁচা গেল বাবা!’
ওদের সঙ্গে খানিকটা এগিয়ে, এক চিলতে ফাঁকা জায়গায় সিমেন্ট কংক্রীটের আটটা পিলারের ওপর কাঠের রংচটা একটা ওয়াচ টাওয়ার চোখে পড়ল। ওপরে ওঠার জন্যে লোহার রেলিং দেওয়া একটা সরু সিঁড়ি। দু’টো রেলিং এর মধ্যে একটা আবার দোমড়ানো।
ওপরে উঠতে উঠতে জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কিভাবে হয়েছে মোহন সিং ?
মুখ কাচুমাচু করে মোহন সিং বলল, ‘ওই স্যার ওদেরই কীর্তি, মানে ওই হাতিরা আর কি!’
‘টেরিফিক’, প্রদীপ বলল, ‘তা আজকে দেখা টেখা যাবেনা?’
‘হাতির কথা বলছেন? স্যার যত চাই তত !
বলে কি লোকটা! পান্ডে ইংরিজিতে বলল, ঢপ দিচ্ছে। বাইরের কাউকে দেখলেই ফরেস্টের লোকরা এরকম ঢপ মারে!
দশ বাই পনেরো ফুটের মত, কাঠের রেলিং দিয়ে ঘেরা একটা প্ল্যাটফর্ম। ওপরে শাল কাঠের তক্তা বসানো ছাদ। আসবাবহীন, নিরাভরণ, ধূলিধূসর। তবু সেখানে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেলাম। সূর্য্য অস্ত গেছে। মেটে সিঁদুর মাখানো মলিন আলোয় যতদূর চোখ যায়, ডেউ খেলানো বেঁটে পাহাড়ের ওপর মোহময় শালের বন। নিস্তব্ধ নির্জন। কোথাও কোন জনবসতির চিহ্নমাত্র নেই।
জীপের কাছে ফেরার আগেই অন্ধকার হয়ে গেল। সোজাসুজি গেলে, এখান থেকে ওয়াচটাওয়ার মেরেকেটে হয়তো, আধ কিলোমিটার হবে। সামান্য যা জিনিষপত্র আছে, বয়ে নিয়ে যেতে পারব। টর্চ হাতে মোহন সিং চলেছে আগে। আমার কাঁধে হাল্কা বিছানা, হাতে ব্রীফ কেস। প্রদীপ আর আর পান্ডেরও তাই। পেছনে সহদেব। ওয়াচ টাওয়ারের নিচে পৌঁছে দূর থেকে আসা কিন্তু স্পষ্ট একটা ধপ ধপ আওয়াজ শুনতে পেলাম।
এক নিমেষে মোহন সিং ওপরে টোর্চের আলো দেখাতে দেখাতে চাপা গলায় বলল, ‘উঠে যান, উঠে যান, শিগগির!’ দুহাতই প্রায় বন্ধ। পড়ি কি মরি করে কোনক্রমে ব্যালান্স রেখে ওপরে উঠে এলাম। প্রদীপ একটা মোমবাতি জ্বালাতে যাচ্ছিল। মোহন সিং মানা করল।
হাতের বোঝা নামিয়ে রেখে বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলাম। নিশ্ছিদ্র অন্ধকার চারিদিকে। ঝাঁকেঝাঁকে মশা ঘিরে ধরেছে। মারবো তার উপায় নেই, শব্দ হবে। আসেপাশের গাছপালা থেকে অদ্ভুত একটা জমাট বুনো গন্ধ আসছে। কাতর হয়ে মোহন সিংকে জিজ্ঞাসা করলাম, একটা সিগারেট ধরাবো ? ও কিছু বলার আগে আমার বন্ধুরাই আমাকে ধমকে চুপ করালো। ঠিক সেইসময়, খুব সম্ভব কয়েকটা হাতি একসঙ্গে জঙ্গল কাঁপিয়ে ডেকে উঠলো।
শহরে, বাজারে, সার্কাসে হাতি অনেক দেখেছি, ডাকও শুনেছি। সে ডাক অনেক ভদ্রস্থ। কিন্তু এই অন্ধকারে, এই গভীর অরণ্যে, হাতির গগনভেদী ডাক বুকের ভেতরটা অবধি কাঁপিয়ে দিয়ে গেল। মোহন সিং ফিস ফিস করে বলল, ‘একটু দূরের জলাটার কাছে রয়েছে বোধহয়, পেট্রলের গন্ধ পেয়েছে!’
অনেক্ষণ পর, মোহন সিং এর অনুমতি নিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে বিছানা ঠিকঠাক করে ফেললাম। খাবার বলতে , পাঁউরুটি, মাখন আর জ্যাম। ওয়াটার বটল থেকে ঢকঢক করে জল ঢাললাম গলায়। মোহন সিং বসে থাকল সিঁড়ির মুখটায়।
মোমবাতি নেভাতেই আবার অন্ধকার। বিছানায় আধ শোওয়া করে একটা সিগারেট ধরিয়েছি। প্রদীপ ওর ব্যাগে ভরে প্রায় একটা ‘সংসার’ নিয়ে এসেছে। নিঃশব্দে জামা প্যান্ট বদলে, পাজামা পাঞ্জাবি পরে তার ওপর ড্রেসিং গাউন চড়ালো। পান, পানপরাগ, পানবাহার টাহার কিসব বার করে খেলো দেখলাম। ওডোমসের একটা ট্যুব বার করে লাগালো। ওর এইসব আদিখ্যেতা দেখে আমি আর পান্ডে নিচু গলায় হাসাহাসি করে সময় কাটালাম কিছুক্ষণ। নভেম্বর মাস, শীত ঘন হয়ে আঁকড়ে ধরেছে। আমি প্যান্ট আর সোয়েটার পরেই কম্বলের নিচে ঢুকেছি।
কিছুক্ষণের মধ্যেই পান্ডে ক্ল্যারিওনেট বাজানোর মত শব্দ করে নাক ডাকাতে লাগলো। প্রদীপ এপাশ ওপাশ করছিল, বলল, ‘ভাই মোহন সিং, তোমার হাতিরা কি আজ ছুটিতে চলে গেল নাকি সব ?’ একটু ইতস্তত করে মোহন সিং বলল, ‘না , মানে, এই সাহেবকে যদি উঠিয়ে দেন তাহলে আসতে পারে। এই আওয়াজে আসবেনা’।
অবশ্য পান্ডে কে জাগিয়েও কোন লাভ হলনা। আমাদের ওয়াচ টাওয়ার এবং তার চেয়েও উঁচু গাছের আড়ালে চাঁদ উঠল। হিম ঠান্ডা হাওয়ায় গাছের পাতা দুলতে লাগল। ঝিঁঝিঁর মত একটা চাপা ডাক শুনছি অনেক্ষণ ধরে। আর শুনছি প্যাঁচার কর্কশ আওয়াজ। অনেকটা কুকুরের মত একটা চড়া গলার ডাক শুনে প্রদীপ বলল, ‘বার্কিং ডীয়ার। আসেপাশে বাঘ থাকলে এরা এরকম ডাকে’। একথা সত্যি কি না তা নিয়ে , পান্ডে বলাবাহুল্য চাপা গলায় তর্ক করতে ছাড়লনা। কিন্তু কোথায় হাতি?
আমাদের থামিয়ে দিয়ে মোহন সিং বলল, ‘এসে গ্যেছে!’ আমাদের অবিশ্বাস ততক্ষণে বেশ গাঢ হয়ে এসেছে। পান্ডে ইংরিজিতে বলল, ‘লোকটা গুল মারছে’। আমি আর প্রদীপ ততক্ষণাৎ সহমত হলাম। কোনো শব্দ নেই। টর্চ জ্বালানো মানা। কথা বলা মানা। কান খাড়া করে বসে অন্ধকার দেখছি শুধু।
বেশ খানিক্ষণ পর শুকনো পাতার ওপর মৃদু সড়সড় জাতীয় একটা শব্দ পেলাম। হালকা দু একটা পাতার বোঁটা ভাঙ্গার মত শব্দ। অধৈর্য্য হয়ে আমি বললাম, টর্চ জ্বালাবো? চাপা গলায় মোহন সিং বলল, ‘না’!
খানিক্ষণ পর সেই সড় সড় শব্দটা মনে হল এগিয়ে আসছে। ফোঁস ফোঁস করে বেশ ভারী, জোরালো নিঃশ্বাসের শব্দ শুনলাম যেন কয়েকবার। আর সঙ্গে সঙ্গে মোহন সিং এর হাতের দুখানা জোরালো বড় টর্চ ঝলসে উঠলো। সেই আলোয় দেখলাম, সাত আটটি হাতির ছোট একটা দল পাশের রাস্তা দিয়ে এসে নিচের ফাঁকা জায়গাটায় দাঁড়িয়েছে। পালোয়ানদের মত লাল ধুলো মাখা পর্বত প্রমাণ শরীর। দলের সামনে একটা বাচ্চা হাতি।
অসাধারণ উত্তেজনার কয়েকটি মুহূর্ত কেটে গেল নিঃশব্দে। তারপর পথ পরিবর্তন করে, যে পথে এসেছিল সম্ভবতঃ সেই পথেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল হাতিরা। তার মানে এব্যাউট টার্ণ। ভারী শরীরের এই প্রাণিদের জন্যে সেটা অবশ্যই খুব সোজা ব্যাপার নয়। অদৃশ্য এক ভাব বিনিময়ের মধ্যে দিয়ে বেশ সময় নিয়ে স্থান পরিবর্তন করল হাতিরা। বাচ্চাটিকে আবার দলের সামনে নিয়ে আসা হল। তার পর ধুপধাপ শব্দে পালিয়ে যাওয়া। ওয়াচ টাওয়ারের নিচটা ফাঁকা হওয়ার ফলে টর্চের আলোয় দৃশ্যটি প্রাণভরে উপভোগ করলাম আমরা। বলা বাহুল্য, আসার চেয়ে যাওয়ার শব্দটা ছিল অনেক বেশি স্পষ্ট।
তার পরেও ডাক শুনলাম অনেকবার। কিন্তু কাছাকাছি এলোনা আর কোনো দল। একটু পরে ঘুমিয়ে পড়লাম এবং অপরিচিত জায়গার অস্বস্তি আর মশার কামড়ে ঘুম ভেঙ্গে পান্ডুর চাঁদের মুখ দেখলাম কয়েকবার। শেষবার যখন ঘুম ভাঙ্গলো তখন প্রায় ছ’টা, ভোরের আলো ফুটছে। বড় একটা হাই তুলে আমি বন্ধুদেরকে ওঠালাম। আর ঝাড়া ন’ কিলোমিটার হেঁটে থোলকোবাদ যাওয়ার জন্যে প্রস্তুত হয়ে নিলাম মনে মনে।
এ্যাডভেঞ্চারের কৃতিত্বটা অবশ্যই দাবী করল, প্রদীপ। ওর বক্তব্য, 'আগে পাংচার ঠিক করিয়ে রাখলে তো আর জঙ্গলে বসে জঙ্গলি হাতি দেখার এরকম সুযোগ হতনা!'
লেখক পরিচিতি: লেখক অবসরপ্রাপ্ত আই এফ এস আধিকারিক এবং ঔপন্যাসিক।









Comments